
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
ঢাকার আশুলিয়ায় রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) রাতে আশুলিয়ার তৈয়্যবপুর এলাকার একটি টিনশেড বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত স্থানে গিয়ে ঘোড়া জবাইয়ের দৃশ্য দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় জবাইয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে অসুস্থ ও অক্ষম ঘোড়া সংগ্রহ করে গভীর রাতে জবাই করে। পরে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন বাজার, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করা হয়। গভীর রাত এবং জবাইকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় স্থানীয়রা নিরাপত্তার শঙ্কায় তাদের বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষ বসবাস করেন। এমন প্রতারণার মাধ্যমে ভিন্ন প্রাণীর মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি হলে সাধারণ ভোক্তা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির অভিযোগের খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগে জড়িত প্রতারকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভেজাল ও প্রতারণামূলক খাদ্য ব্যবসার বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :