
সাভার প্রতিনিধি । ঢাকা
ঢাকার সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামিরের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে ওই কিশোর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের দাবি, মারধরের ফলে তার দুই চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চোখ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় মাহাবুব হোসেন সামিরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর দুলাভাই স্বপন চন্দ্র সূত্রধর।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় আরেক কিশোরের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির ক্ষুব্ধ হয়ে রিপনকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তার সহযোগীদের।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার রাজধানী বেকারির সামনে থেকে রিপনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সামিরের ব্যক্তিগত অফিসে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে দেয়ালের সঙ্গে মাথা আছড়ে মারা হয় এবং লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে রিপন অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
লিখিত অভিযোগে মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির ছাড়াও মানিক ওরফে পিস্তল মানিক, সজিব এবং আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, অবৈধভাবে আটক, গুরুতর শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :