দুদকের বাতিল করা টেন্ডারে গণপূর্তের প্রকৌশলী জহুরুল ও নূরুল আমীনের ‘১০ কোটি টাকার মিশন’!


admin প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন /
দুদকের বাতিল করা টেন্ডারে গণপূর্তের প্রকৌশলী জহুরুল ও নূরুল আমীনের ‘১০ কোটি টাকার মিশন’!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম এবং ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মন্ত্রণালয়ের আদেশ লঙ্ঘন এবং দরপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে বাতিল হওয়া একটি বড় প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই দুই প্রকৌশলী পুনরায় নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর অধীনে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি বেসমেন্টসহ ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণ, প্রশাসনিক এলাকা, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি, পানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন কাজের একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

প্রথমবার যখন এই প্রকল্পের দরপত্র (আইডি: ১১২০৮৫৩) আহ্বান করা হয়, তখনই নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে দরপত্রের গোপন রেট কোটেশন পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কো.’ (এনডিই)-কে সরবরাহ করেন। এই গোপন তথ্যের সুবিধা নিয়ে এনডিই দরপত্রে ঠিক ১০ শতাংশ কম দর দিয়ে কাজটির জন্য নির্বাচিত হয়।

এই নজিরবিহীন অনিয়মের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে পৌঁছালে, গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুদক গণপূর্তের ওই কার্যালয়ে একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ ক দদকের অভিযানের পর গহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রথম আহ্বান করা দরপত্রটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করে।

সে সময় দুদকের অভিযান সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “দুদক যেসব কাগজপত্র চেয়েছে সেগুলো দিয়েছি। অনিয়ম করলে কাগজেই প্রমাণ হবে।” পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় দরপত্রটি বাতিল করার মাধ্যমে অনিয়মের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং নতুন কোনো প্রাক্কলন (Estimation) অনুমোদন ছাড়াই শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম এবং ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়া পরস্পর যোগসাজশে একই কাজের জন্য নতুন একটি দরপত্র আহ্বান করেন (আইডি: ১২০৭৪৯৯)।

গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, এবার এই দরপত্রটি ‘জামাল অ্যান্ড কোং’ নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকার একটি গোপন সমঝোতা বা চুক্তি হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূরুল আমীনের সরাসরি অনুমোদন ও ইন্ধন ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল এককভাবে এই দরপত্র পুনরায় আহ্বান করতে পারতেন না। এই অনৈতিক চুক্তির টাকা দুজনের মধ্যেই ভাগাভাগি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ না করেই ঠিকাদারকে শতভাগ বিল পরিশোধ করার পুরোনো আমলনামাও সামনে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে ঢাকার শ্যামলীস্থ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল (MFSTC) মেরামতের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ণ বরাদ্দের বিল তুলে নেন জহুরুল ইসলাম।

গুরুতর এসব অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেওয়ার জন্য শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

একইভাবে, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card

দুদকের বাতিল করা টেন্ডারে গণপূর্তের প্রকৌশলী জহুরুল ও নূরুল আমীনের '১০ কোটি টাকার মিশন'!

13 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.banglanewsbank.com